লেখাঃ ময়নুল ইসলাম শাহ্‌

প্রিয় সহকর্মী, সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, এবং বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণ,

আসসালামু আলাইকুম ও আদাব। আজ আমরা এক মহামূল্যবান স্মৃতি এবং গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিনে একত্রিত হয়েছি। ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এ দিনটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে, কারণ এটি এমন একটি দিন যা আমাদের জাতীয় ঐক্য, সংহতি এবং দেশপ্রেমের উদাহরণ হিসেবে প্রজ্বলিত হয়ে আছে।

•অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্মানিত সভাপতি / প্রধান অতিথি, সাধারণ সম্পাদক ও সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ- সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য শুরু করছি।

•বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে।

•সেই সাথে স্মরণ করছি ৩ নভেম্বর শাহাদাৎ বরণকারী জাতীয় চার নেতাকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লক্ষ শহিদ ও সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করছি। 

এই দিনটির প্রেক্ষাপট এবং তাৎপর্য:
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতার সময়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের জন্ম হয়েছিল। ১৫ই আগস্টের পর, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সে সময়ে ৭ নভেম্বর ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান আমাদের দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গভীর প্রভাব ফেলে। এই দিনে সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা, সাধারণ জনগণ এবং তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় সংহতির ঐক্যকে দৃঢ় করেন।

প্রিয় বন্ধুগণ,
৭ নভেম্বরের সেই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান অসামান্য। তিনি দেশের একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে জাতীয়তাবাদের চেতনা এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ছিলেন। তিনি এই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের ক্ষমতা হাতে নিয়ে আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার উপর ভিত্তি করে দেশের পুনর্গঠন শুরু করেন।

জিয়াউর রহমানের অবদান:
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এক অসাধারণ নেতা, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। এই অভ্যুত্থানের পর, জিয়াউর রহমান জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নিজের নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। দেশের বিপন্ন পরিস্থিতিতে তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংকল্প নেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হয়, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার সময়ে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, এবং অর্থনীতির উন্নয়নে বহু পদক্ষেপ নেয়া হয়। তিনি গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প চালু করেন এবং ক্ষুদ্র কৃষক ও খামারিদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি করেন। স্বাধীনতার পরবর্তী দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থাকে শক্তিশালী করতে তিনি অবদান রাখেন এবং বাংলাদেশের জন্য একটি সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করেন।

ভাই ও বোনেরা,

৭ নভেম্বর কেবল একটি স্মৃতি নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য একটি উদ্দীপনা। এই দিন আমাদের শিক্ষা দেয় কিভাবে দেশপ্রেম, সংহতি ও ঐক্যের মাধ্যমে জাতি শক্তিশালী হতে পারে। জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও নেতৃত্ব আমাদের জন্য সেই পথ দেখিয়ে দেয়। তিনি সবসময় দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন এবং স্বাধীনতার জন্য কাজ করে গেছেন। তার চিন্তাধারায় জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি ছিল।

আমাদের এই প্রতিজ্ঞা:
আজকের এই দিনে আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে আমরা জাতীয়তাবাদী চেতনার আলোকে দেশের কল্যাণে কাজ করব এবং দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাব। আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হব এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের সেই চেতনার পথে অগ্রসর হব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে এমন একটি দেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত থাকবে, যেখানে গণতন্ত্র এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আমরা তার নেতৃত্বের আলোকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একতাবদ্ধ থাকব।

সর্বশেষে,
আসুন, আমরা সবাই ৭ নভেম্বরের চেতনা ও দেশপ্রেমের প্রতীক নিয়ে এগিয়ে যাই এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে একসাথে কাজ করি। এই দিনটি আমাদের জন্য দেশপ্রেম, সংহতি এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বহন করে। স্বৈরাচারের শাসনমুক্ত নতুন বাংলাদেশে আমরা বৈষম্যহীন নতুন মানবতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবো ইনশা আল্লাহ।

সবাইকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

আরও পড়ুন- ৩ নভেম্বর-জেলহত্যা দিবসের বক্তব্য

৭ নভেম্বর প্রবন্ধ ময়নুল ইসলাম শাহ্‌

এফএকিউ

১. ৭ নভেম্বরকে কেন জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বলা হয়?
উত্তর: ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, সেনাবাহিনী, এবং রাজনৈতিক নেতারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক দিনটি জাতীয় সংহতির প্রতীক এবং বিপ্লবের দিন হিসেবে স্বীকৃত।

২. ৭ নভেম্বরের বিপ্লব কাদের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়?
উত্তর: এই বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান, যিনি পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং বিএনপি গঠন করেন। তার নেতৃত্বে দেশব্যাপী ঐক্যের শক্তি তৈরি হয়েছিল।

৩. জিয়াউর রহমানের অবদান কী ছিল?
উত্তর: জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং দেশপ্রেমের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

৪. ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের পেছনের কারণ কী ছিল?
উত্তর: বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় সংহতির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জনগণ এবং সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ঘটায়।

৫. ৭ নভেম্বরের দিনটি বিএনপির কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: এই দিনটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির শক্তিকে চিহ্নিত করে। এটি বিএনপির আদর্শ ও মূল্যবোধের একটি প্রতীক।

৬. ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কিভাবে কাজ করে?
উত্তর: এই দিনটি দেশের সর্বস্তরের মানুষ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সংহতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের সূচনা করে, যা আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

৭. বিএনপি ৭ নভেম্বর দিবসটি কিভাবে উদযাপন করে?
উত্তর: বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে স্মরণ করে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা এই দিনটিতে বিশেষ আলোচনা, সমাবেশ ও বক্তৃতার মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

৮. জিয়াউর রহমানের সময়ে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল?
উত্তর: তিনি কৃষি, শিল্প, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

৯. ৭ নভেম্বরের বিপ্লব আমাদের বর্তমান প্রজন্মের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: ৭ নভেম্বর আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একতা ও সংহতির শক্তি কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তার উদাহরণ। বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণার বিষয়।

১০. ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চেতনাকে কিভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌছানো যায়?
উত্তর: এই ঐতিহাসিক দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন আলোচনা, প্রবন্ধ, এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা যায়।

১১. বিএনপি ৭ নভেম্বরের চেতনাকে তার রাজনৈতিক আদর্শের সাথে কিভাবে মিলিয়ে দেখে?
উত্তর: বিএনপি ৭ নভেম্বরকে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হিসেবে দেখে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের দায়বদ্ধতা হিসেবে এই চেতনা লালন করে।

১২. ৭ নভেম্বরের চেতনার ভিত্তিতে বিএনপি কোন মূলনীতি অনুসরণ করে?
উত্তর: বিএনপি জাতীয় ঐক্য, সংহতি, এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে, যা ৭ নভেম্বরের চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দেখুন- ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস জিয়াউর রহমান

One thought on “৭ নভেম্বর: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এর বক্তব্য, বক্তৃতা বা ভাষণ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *