২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৫ উপলক্ষে একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করছি। এতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতার গুরুত্ব, তরুণদের দায়িত্ব ও দেশ গঠনের আহ্বান। চলুন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের শপথ নিই।
📜 ভাষণঃ ২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস, ২০২৫
সম্ভাষণ ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
মাননীয় সভাপতি, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, প্রিয় শিক্ষকমণ্ডলী এবং উপস্থিত শ্রোতাগণ,
আসসালামু আলাইকুম / আদাব।
আজ আমরা গর্বিত এক জাতির সন্তান হিসেবে একত্রিত হয়েছি। আজকের দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি, গৌরবের ইতিহাস, রক্তে রঞ্জিত বিজয়ের এক মহিমান্বিত অধ্যায়। তাই প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধা জানাই মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের প্রতি। সেই সাথে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহিদের প্রতি।
একটি কবিতাংশ
“পৃথিবীর বুকে বাংলার নাম আজ উজ্জ্বল,
লড়াইয়ের ইতিহাসে লেখা হলো অনন্য মহিমা,
সেখানে বীরত্বের গান বাজে নিঃশব্দে,
শাসকগোষ্ঠীর শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির সীমানা।“
প্রেক্ষাপটঃ কেন ২৬শে মার্চ মহান?
সম্মানিত সুধী, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মম গণহত্যা চালায়। সেদিন রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন—বাংলাদেশ স্বাধীন! এরপর শুরু হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়, কিন্তু এর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ২৬শে মার্চেই। তাই এই দিনটি আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, সংগ্রামের চেতনা এবং আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল।
স্বাধীনতার তাতপর্য ও গুরুত্ব
স্বাধীনতা মানে শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এটি আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বকীয়তার অধিকার। আমাদের স্বাধীনতা এসেছে অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে, তাই এর মূল্য রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই কিনতে এখানে ক্লিক করুন
বর্তমান বাংলাদেশঃ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। দারিদ্র্যের হার কমেছে, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র—এসবই আমাদের অগ্রগতির প্রমাণ। তবে, দুর্নীতি, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য এখনও আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশঃ আমরা কোথায় যেতে চাই?
আমাদের স্বপ্ন—একটি দুর্নীতিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর, উন্নত বাংলাদেশ। যেখানে সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে, শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে, অর্থনীতি হবে স্বনির্ভর, এবং সর্বোপরি—গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার থাকবে সুসংহত।
আমাদের করণীয় ও তরুণদের দায়িত্ব
প্রিয় উপস্থিতি, তরুণরাই জাতির ভবিষ্যৎ, তাদের হাতেই দেশের আগামী দিনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তাই তাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা ও তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে কেউ ইতিহাস বিকৃত করতে না পারে। অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়ানো তরুণদের নৈতিক কর্তব্য, কারণ ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতন সমাজের প্রয়োজন। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া অপরিহার্য, কেননা একটি উন্নত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণার বিকল্প নেই। সর্বোপরি, তরুণদের দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে দেশকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পারে।
দেশ গঠনের আহ্বান ও আশাবাদ
প্রিয় তরুণ বন্ধুরা,
তোমাদের হাতেই আগামী বাংলাদেশের নিয়তি। তোমরাই হবে নতুন সূর্য, যারা জাতিকে আলোকিত করবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমাদের শপথ নিতে হবে—দেশের জন্য কাজ করবো, সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। আজকের এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আসুন, আমরা একযোগে শপথ নেই—”বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো, রক্তের ঋণ শোধ করবো উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে।” কবির ভাষায় বলতে চাই-
অর্জিত স্বাধীনতা কেবল একটি ঘটনা নয়,
জীবনধারার প্রাত্যহিকতায় মুক্তির আবেশ
দায়িত্ব এদেশের প্রতিটি সন্তানের কাঁধে,
আগামী দিনে গড়তে হবে সোনার বাংলাদেশ।
সম্পূর্ণ কবিতাটি পড়ুন এখানে
বিদায়ী সম্ভাষণ
পরিশেষে, আবারও মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। এতক্ষণ ধৈর্য ধরে আমার বক্তব্য শোনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। সেই সাথে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই আমাকে এই মঞ্চে কিছু বলার সুযোগ দেয়ার জন্য।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
[…] […]